টেলিযোগাযোগ বলতে মূলত: বোঝায় প্রযুক্তি
ব্যবহার করে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে দূরবর্তী কোনো স্থানে সংকেত তথা বার্তা
পাঠানো। এই যোগাযোগ তারের মাধ্যমে অথবা তারবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও
হতে পারে। শুরুতে টেলিফোনই ছিল একমাত্র টেলিযোগাযোগ যন্ত্র। পরবর্তীতে তারহীন
বার্তা প্রেরণ বা বেতার টেলিযোগাযোগ আবিষ্কার হয়েছে রেডিও যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সমিটারের ব্যবহার করে তড়িৎ চুম্বক তরঙ্গের সাহায্যে সংকেত পাঠান হলেও আগেকার যুগে ধোঁয়ার সংকেত, ঢোল অথবা পতাকার মাধ্যমে সংকেত পাঠান হতো। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ বিশ্বাব্যাপী বিস্তৃত এবং এ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত যন্ত্র যেমন টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন এবং ওয়াকিটকি সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। এ সকল যন্ত্রকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে। যেমনঃ পাবলিক টেলিফোন নেটওয়ার্ক, রেডিও নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এবং টেলিভিশন নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেট এর মাধ্যমে একটি কম্পিউটারের সাথে আরেকটি কম্পিউটটারের সংযোগ স্থাপনও একপ্রকার টেলিযোগাযোগ।
১৭৯২ সালে ক্লদ শাপে(Claude Chappe) নামে একজন ফরাসি প্রকৌশলী প্রথম দৃশ্যমান টেলিগ্রাফ যন্ত্র তৈরি করেন যা লিল ও প্যারিস এর মাঝে সংযোগ স্থাপন করে। এ ক্ষেত্রে সেমাফোর পদ্ধতি ব্যবহৃত হত। সেমাফোর পদ্ধতিতে দুটি পতাকার বিভিন্ন অবস্থানের মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণ নির্দেশ করে সংকেত পাঠানো হয়। লিল থেকে প্যারিস পর্যন্ত স্থাপিত প্রথম সংযোগটি পরে স্ট্রাসবুর্গ পর্যন্ত বর্ধিত হয়। ১৭৯৪ সালে সুইডিশ প্রকৌশলী আব্রাহাম এডেলক্রান্টজ সামান্য ভিন্ন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্টকহোম থেকে ড্রটিংহোম পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করেন। শাপে এর যন্ত্রে কপিকলের মাধ্যমে কাঠের তক্তা ঘওরার ব্যাবস্থা ছিল। অপরদিকে ক্রান্টজ এর যন্ত্রে কেবলমাত্র হালকা শাটার ব্যবহৃত হওয়ায় এর গতি ছিল বেশি। কিন্তু সেমাফোর পদ্ধতি ব্যবহার করে যোগাযোগ করা অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া অসম্ভব ছিল। এছাড়াও অল্প দূরত্ব(১০-৩০ কি.মি.) পরপর টাওয়ার নির্মানের বিশাল খরচের কারণে ১৮৮০ সালের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে এ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
বার্তা প্রেরণ বা বেতার টেলিযোগাযোগ আবিষ্কার হয়েছে রেডিও যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সমিটারের ব্যবহার করে তড়িৎ চুম্বক তরঙ্গের সাহায্যে সংকেত পাঠান হলেও আগেকার যুগে ধোঁয়ার সংকেত, ঢোল অথবা পতাকার মাধ্যমে সংকেত পাঠান হতো। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ বিশ্বাব্যাপী বিস্তৃত এবং এ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত যন্ত্র যেমন টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন এবং ওয়াকিটকি সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। এ সকল যন্ত্রকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে। যেমনঃ পাবলিক টেলিফোন নেটওয়ার্ক, রেডিও নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এবং টেলিভিশন নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেট এর মাধ্যমে একটি কম্পিউটারের সাথে আরেকটি কম্পিউটটারের সংযোগ স্থাপনও একপ্রকার টেলিযোগাযোগ।
ইতিহাস
প্রাচীন যুগের যোগাযোগ ব্যবস্থা
প্রাচীন যুগে মানুষ দুরে অবস্থানকারী কোন মানুষের সাথে ধোঁয়ার সংকেত দিয়ে বা ঢোল বাজিয়ে যোগাযোগ করত। আফ্রিকা, নিউ গিনি এবং দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় উপজাতিরা ঢোল বাজিয়ে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করত। চায়না ও উত্তর আমেরিকার অধিবাসীরা ধোঁয়ার সংকেত দিয়ে দুরে খবর পাঠাও। ঢোলের শব্দ বা ধোঁয়া কোন একটি গোত্রের উপস্থিতি ঘোষণা করা ছাড়াও বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে অন্যান্য তথ্যও বহন করত।১৭৯২ সালে ক্লদ শাপে(Claude Chappe) নামে একজন ফরাসি প্রকৌশলী প্রথম দৃশ্যমান টেলিগ্রাফ যন্ত্র তৈরি করেন যা লিল ও প্যারিস এর মাঝে সংযোগ স্থাপন করে। এ ক্ষেত্রে সেমাফোর পদ্ধতি ব্যবহৃত হত। সেমাফোর পদ্ধতিতে দুটি পতাকার বিভিন্ন অবস্থানের মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণ নির্দেশ করে সংকেত পাঠানো হয়। লিল থেকে প্যারিস পর্যন্ত স্থাপিত প্রথম সংযোগটি পরে স্ট্রাসবুর্গ পর্যন্ত বর্ধিত হয়। ১৭৯৪ সালে সুইডিশ প্রকৌশলী আব্রাহাম এডেলক্রান্টজ সামান্য ভিন্ন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্টকহোম থেকে ড্রটিংহোম পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করেন। শাপে এর যন্ত্রে কপিকলের মাধ্যমে কাঠের তক্তা ঘওরার ব্যাবস্থা ছিল। অপরদিকে ক্রান্টজ এর যন্ত্রে কেবলমাত্র হালকা শাটার ব্যবহৃত হওয়ায় এর গতি ছিল বেশি। কিন্তু সেমাফোর পদ্ধতি ব্যবহার করে যোগাযোগ করা অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া অসম্ভব ছিল। এছাড়াও অল্প দূরত্ব(১০-৩০ কি.মি.) পরপর টাওয়ার নির্মানের বিশাল খরচের কারণে ১৮৮০ সালের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে এ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন